মাইক্রোসফ্ট অফিস MS Office এর কাজ কি ?

মাইক্রোসফট অফিস ( Microsoft Office ) হচ্ছে কতগুলি আলাদা ডেস্কটপ অ্যাপ্লিকেশনের সমন্বয়ে তৈরি অফিস ব্যবস্থাপনা করার একটি প্যাকেজ যাহা মাইক্রোসফট উইন্ডোজ ( Microsoft Windows ) অপারেটিং সিস্টেমে চলে । ১৯৮৮ সালে বিল গেটস লাস ভেগাসে একটি প্রদর্শনীতে মাইক্রোসফট অফিসের কথা ঘোষণা করেন ।

মাইক্রোসফ্ট অফিস MS Office এর কাজ কি ?

যেহেতু মাইক্রোসফট ওয়ার্ড অনেকগুলি প্রোগ্রামের সমন্বয়ে নাম করন করা হয়েছে সুতরাং সেই অ্যাপ্লিকেশন বা প্রোগ্রামগুলির নাম হচ্ছে যথাক্রমে মাইক্রোসফট ওয়ার্ড ( Microsoft Word ), মাইক্রোসফট এক্সেল ( Microsoft Excel ) এবং মাইক্রোসফট পাওয়ার পয়েন্ট ( Microsoft PowerPoint ) । বছরের পর বছর ধরে এই অ্যাপ্লিকেশনগুলি উন্নত করা হচ্ছে যেমন বানান শুদ্ধি করন, ভিসুয়াল বেসিক প্রগ্রাম্মিং-এর সংযোজন ইত্যাদি । বিশ্বের লক্ষ লক্ষ লোক মাইক্রোসফট অফিস ব্যবহার করে ।

মাইক্রোসফট কর্পোরেশন (Microsoft Corporation) একটি বহুজাতিক আমেরিকান প্রযুক্তি কোম্পানি। এর সদরদপ্তর যুক্তরাষ্ট্রের রেডমন্ড, ওয়াশিংটনে অবস্থিত। মাইক্রোসফট সফটওয়্যার, ভোক্তা ইলেকট্রনিক্স, ব্যক্তিগত কম্পিউটার ও এর সাথে আনুষাঙ্গিক বিভিন্ন সেবা উন্নয়ন, উৎপাদন, অনুমোদন, সমর্থন, ও বিক্রি করে থাকে।

কোম্পানিটির বহুল পরিচিত সফটওয়্যার পণ্য এর উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম ধারা, অফিস স্যুট, এবং ইন্টারনেট এক্সফ্লোরার ও বর্তমানে এজ ওয়েব ব্রাউজার। আর উল্লেখযোগ্য হার্ডওয়্যার পণ্যের মধ্যে আছে এক্সবক্স ভিডিও গেম কনসোল ও সারফেস ব্যক্তিগত কম্পিউটার ধারা। ২০১৬ সালে মাইক্রোসফট ছিলো আয়ের ভিত্তিতে পৃথিবীর বৃহত্তর সফটওয়্যার নির্মাতা (বর্তমানে সে জায়গা আলফাবেটের দখলে)। দুটো শব্দ “মাইক্রোকম্পিউটার” ও “সফটওয়্যার”-এর মিলনে “মাইক্রোসফট” নামটির সৃষ্টি।

Histpry of মাইক্রোসফ্ট অফিস

৪ এপ্রিল ১৯৭৫ সালে বিল গেটস ও পল অ্যালেন অল্টেয়ার ৮৮০০ এর জন্য বেসিক ইন্টারপ্রেটার নির্মান ও বিক্রির জন্য মাইক্রোসফট প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৮০-র দশকের মাঝামাঝিতে এসে মাইক্রোসফট তাদের এমএস-ডস দিয়ে অপারেটিং সিস্টেম বাজারে বিশেষ জায়গা করে নিতে শুরু করে। ১৯৮৬ সালে কোম্পানিটির আইপিও এবং তারপর ক্রমশ শেয়ারের মূল বৃদ্ধির ফলে কোম্পানির চাকরিজীবীদের মধ্যে ২ জন লক্ষকোটিপতি, ও ১২ জন লক্ষপতির সৃষ্টি হয়। ১৯৯০-এর দশক থেকে মাইক্রোসফট অপারেটিং সিস্টেমের বাইরেও বিভিন্ন দিকে ছড়ানো শুরু করে এবং এসময় তারা কিছু কোম্পানি অধিগ্রহণও করে। মাইক্রোসফটের সবচেয়ে বড় অধিগ্রহণ লিংকডইন, যা তারা $২,৬০০ কোটির বিনিময়ে ২০১৬ সালে অধিগ্রহণ করে।

মাইক্রোসফট অফিসের বর্তমান সংস্করনের নাম অফিস ২০১৩ ( Office 2013 ) । অফিস শুধু মাইক্রোসফট উইন্ডোজেই চলেনা ইহা ইউনিক্স বেসড ( Unix Based ) অপারেটিং সিস্টেমও চলে যেমন ম্যাক ওএস এক্স ( MAC OS X ) । যে সকল মোবাইল ফোন, ট্যাবলেট ইত্যাদি উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমে চলে সেগুলোতে আগে থেকেই মাইক্রোসফট অফিস দেওয়া থাকে । মাইক্রোসফট অফিস ওয়ার্ড, এক্সেল এবং পাওয়ারপয়েন্ট দিয়ে শুরু করলেও পরে এতে মাইক্রোসফট অ্যাক্সেস ( Microsoft Access ) সহ অনেক অ্যাপ্লিকেশন বা প্রোগ্রাম সংযোজিত করা হয় ।

২০১৫ অনুযায়ী, মাইক্রোসফট ব্যক্তিগত কম্পিউটার অপারেটিং সিস্টেম বাজারে জনপ্রিয়তার দিক থেকে বিশেষ স্থান দখল করে আছে, যার আশেপাশেও অন্য কোন অপারেটিং সিস্টেম নেই। তবে সব ধরণের অপারেটিং সিস্টেম বিবেচনায় দীর্ঘদিন উইন্ডোজ সেখানেও সবচেয়ে প্রভাবশালী হলেও, বর্তমানে সে জায়গাটি অ্যানড্রয়েড দখল করে নিয়েছে। কোম্পানিটি ডেস্কটপ, ল্যাপটপ, ট্যাবলেট, ও সার্ভারের জন্য বিস্তৃত ধরণের ভোক্তা ও এন্টারপ্রাইজ সফটওয়্যার তৈরী করে, যার মধ্যে আছে ইন্টারনেট সার্চ ইঞ্জিন, ডিজিটাল সেবা বাজার, মিশ্র বাস্তবতা,ক্লাউড কম্পিউটিং ও সফটওয়্যার উন্নয়নের পণ্য।

মাইক্রোসফটের সদরদপ্তরসমূহ যেগুলো অনেকের কাছে মাইক্রোসফট রেডমন্ড ক্যাম্পাস নামে পরিচিত, রেডমন্ড, ওয়াশিংটনের ওয়ান মাইক্রোসফট ওয়েতে অবস্থিত। মাইক্রোসফট প্রথম ২৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৬ সালে বর্তমান ক্যাম্পাসের এ জায়গায় স্থানান্তরিত হয়, সেসময় থেকে ক্যাম্পাসটিকে কয়েকবার সম্প্রসারিত করা হয়। বর্তমানে ক্যাম্পাসটির মোট আয়তন ৮০ লাখ ফুট২ (৭৫০,০০০ মিটার২), যেখানে প্রায় ৩০,০০০-৪০,০০০ কর্মচারী কর্মরত রয়েছে। অন্য অপিসসমূহ বেলভিউ ও ইসাকোয়াহয় অবস্থিত (বিশ্বব্যাপী যেখানে ৯০,০০০ কর্মচারী কর্মরত রয়েছে)। কোম্পানিটি তার মাউন্টেন ভিউ, ক্যালিফোর্নিয়া ক্যাম্পাসকে বিশাল মাপে পরিবর্তনের পরিকল্পনা করছে। এ ক্যাম্পাসটি ১৯৮১ সাল থেকে মাইক্রোসফটের মালিকানায় রয়েছে। ২০১৬ সালে মাইক্রোসফট ৩২ একর ক্যাম্পাসটি কিনে নেয়। মাইক্রোসফটের চার্লোট, উত্তর ক্যালোরিনায়ও একটি ক্যাম্পাস রয়েছে। @DigitComputer.in

মাইক্রোসফ্ট অফিস (Microsoft Office): মাইক্রোসফ্ট অফিস (Microsoft Office) হচ্ছে এমন এক ধরনের কম্পিউটার প্রোগ্রাম যেখানে অফিসিয়াল সমস্ত কাজ কর্ম করা হয়।তথ্য সংগ্রহ, হিসাব-নিকাশ,ডিজাইন,প্রেজেন্টেশন,ইনভিটেশন কার্ড ইত্যাদি কাজ করার জন্য মাইক্রোসফ্ট অফিস (Microsoft Office) ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এটাই হল মাইক্রোসফ্ট অফিস (Microsoft Office) ।

একটি অফিস স্যুট, যেটি ডেস্কটপ অ্যাপ্লিকেশন, মাইক্রোসফট উইন্ডোজ সার্ভার এবং পরিষেবা এবং ম্যাক অপারেটিং সিস্টেমের একটি অফিস স্যুট। এটির প্রথম ঘোষণা দেন বিল গেটস, ১লা আগস্ট, ১৯৮৮ সালে লাস ভেগাসে। প্রথমে এটি মাইক্রোসফট ওয়ার্ড, মাইক্রোসফট এক্সেল ও মাইক্রোসফট পাওয়ারপয়েন্ট এর একটি সম্মিলিত বান্ডল হিসাবে ছিল।

১০ জুলাই, ২০১২ সালে সফটপিডিয়া বিশ্বব্যাপী ব্যবহারকারির সংখ্যা ১০০ কোটি বলে উল্লেখ করে। বর্তমানে চালু মাইক্রোসফট অফিস ২০১৩ উইন্ডোজের জন্য মুক্ত করা হয় ১১ অক্টোবর, ২০১২ সালে এবং ম্যাক ওএস এর জন্য মাইক্রোসফট অফিস ২০১১ মুক্ত করা হয় ২৬ অক্টোবর, ২০১২ সালে। এটির মোবাইল সংস্করণ অফিস মোবাইল নামে উইন্ডোজ ফোন, আইওএস (আইফোন ও আইপ্যাড-এর জন্য আলাদা) এবং এনড্রয়েড ফোনের জন্য বিনামুল্যে চালু আছে। ওয়েব ভিত্তিক অফিস অনলাইন-ও চালু আছে।

উইন্ডোজ এবং ম্যাক ওএস এর বর্তমান ডেস্কটপ সংস্করণের জন্য অফিস ২০১৬, যা ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০১৫ এবং ৯ই জুলাই, ২০১৫সালে মুক্তি পেয়েছে।

মাইক্রোসফ্ট অফিস (Microsoft Office) এর প্রকারভেদঃ

মাইক্রোসফ্ট অফিস (Microsoft Office) বিভিন্ন প্রকার হয়ে থাকে। যেমনঃ মাইক্রোসফ্ট অফিস (Microsoft Office) ১৯৯৩, মাইক্রোসফ্ট অফিস (Microsoft Office) ২০০০, মাইক্রোসফ্ট অফিস (Microsoft Office) ২০০৩, মাইক্রোসফ্ট অফিস (Microsoft Office) ২০০৭, মাইক্রোসফ্ট অফিস (Microsoft Office) ২০১০, মাইক্রোসফ্ট অফিস (Microsoft Office) ২০১৬, মাইক্রোসফ্ট অফিস (Microsoft Office) ২০১৭। মাইক্রোসফ্ট অফিস (Microsoft Office) ২০১৭ টা খুবই লেটেস্ট।আগের চেয়ে অনেক আপডেট। এবং বিভিন্ন প্রকার কাজ খুব সহজে করা যায়। মাইক্রোসফ্ট অফিস (Microsoft Office) ২০১০,২০১৬, ২০১৭, ২০১৯ এ খুব সহজে পিডিএফ ফাইল করা যায় কিন্তু অন্যান্য অফিস দিয়ে কিন্তু এটা করা যায় না।এরকম আরো অনেক পার্থক্য রয়েছে।

ওয়ার্ডঃ মাইক্রোসফট ওয়ার্ড একটি ওয়ার্ড প্রসেসর এবং পূর্বে এটিকে অফিসের প্রধান প্রোগ্রাম ধরা হত। এটি দে ফ্যাক্টো ভিত্তিক .DOC ফরম্যাটের মালিকানা প্রোগ্রাম। যদিও ওয়ার্ড ২০০৭ এক্সটেনসিভ মার্কআপ ল্যাংগুয়েজ ভিত্তিক প্রোগ্রাম এবং নতুন ফাইল ফরম্যাট .DOCX।

এক্সেলঃ মাইক্রোসফট এক্সেল একটি স্প্রেডশিট প্রোগ্রাম যা আসলে লোটাস ১-২-৩ প্রোগ্রামের বিপরীতে বানানো হয়। এটি উইন্ডোজ এবং ম্যাক ওএস প্লাটফর্মে কাজ করে। মাইক্রোসফট এক্সেল প্রথমে ম্যাকের জন্য বাজারে ছাড়া হয় ১৯৮৫ সালে এবং উইন্ডোজ সংস্করণে ছাড়া হয় ১৯৮৭ সালে।

পাওয়ারপয়েন্টঃ মাইক্রোসফট পাওয়ারপয়েন্ট মাইক্রোসফট পাওয়ারপয়েন্ট উইন্ডোজ এবং ম্যাকের একটি প্রেজেন্টেশন প্রোগ্রাম। এটি স্লাইড তৈরি ও প্রদর্শনে ব্যবহৃত হয়।

এক্সেসঃ মাইক্রোসফট এক্সেস মাইক্রোসফট এক্সেস উইন্ডোজের জন্য একটি ডেটাবেজ প্রোগ্রাম।

আউটলুকঃ মাইক্রোসফট আউটলুক (আউটলুক এক্সপ্রেসের সঙ্গে বিভ্রান্ত করা যাবে না) একটি ব্যক্তিগত তথ্য ম্যানেজার। উইন্ডোজ মেসেজিং, মাইক্রোসফট মেল এবং শিডিউল ++ এর প্রতিস্থাপক হিসেবে অফিস ৯৭ থেকে শুরু হয়। এতে ই- মেইল ক্লায়েন্ট, ক্যালেন্ডার, টাস্ক ম্যানেজার এবং ঠিকানা বই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

ওয়াননোটঃ মাইক্রোসফট ওয়াননোট একটি বিনামূল্যের নোট গ্রহণ প্রোগ্রাম। এটা নোট (হাতে লেখা বা টাইপ করা), অঙ্কন, পর্দা সংবাদপত্রের কেটে রাখা অংশ এবং অডিও কমেন্ট্রি ধারণ করে। নোট ইন্টারনেট বা নেটওয়ার্কের মাধ্যমে অন্য ওয়াননোট ব্যবহারকারীদের সাথে ভাগ করা যেতে পারে।

MS office দিয়ে অফিসিয়াল কি কি কাজ করা হয়ে থাকে

মাইক্রোসফ্ট অফিস (Microsoft Office) এর কাজঃ এই মাইক্রোসফ্ট অফিস (Microsoft Office) দিয়ে বিভিন্ন অফিসিয়াল কাজ করা হয়।যেমনঃ অফিসিয়াল কন্টেন্ট কম্পোজ যেটা মাইক্রোসফ্ট অফিস (Microsoft Office) ওয়ার্ড দিয়ে করা হয়, হিসাব-নিকাশ যেটা মাইক্রোসফ্ট অফিস (Microsoft Office) এক্সেল দিয়ে করা হয়, প্রেজেন্টেশন তৈরী করা যেটা মাইক্রোসফ্ট অফিস (Microsoft Office) পাওয়ারপয়েন্ট দিয়ে করা হয়, তথ্য বা উপাত্ত সংগ্রহ যেটা মাইক্রোসফ্ট অফিস (Microsoft Office) এক্সেস দিয়ে করা হয়।বিভিন্ন অফিসিয়াল কার্ড তৈরী করা যেটা করা হয় মাইক্রোসফ্ট অফিস (Microsoft Office) পাবলিশার দিয়ে।এভাবে বিভিন্ন কাজ করা হয় এই মাইক্রোসফ্ট অফিস (Microsoft Office) দিয়ে।

Leave a Reply